Showing posts with label দেশ-বিদেশ. Show all posts
Showing posts with label দেশ-বিদেশ. Show all posts

Friday, February 2, 2018

ব্রাজিলে বাংলাদেশী

ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পেরু, বলিভিয়া, উরুগুয়ে , চিলি, ভেনিজুয়েলা সবগুলোই লাতিন আমেরিকার দেশ। যদিওবা আমরা ব্রাজিল দেশটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা কিন্তু ফুটবলের দেশ হিসাবে বাংলাদেশেও ব্রাজিলের সাপোর্টর এর পরিমাণ বিশ্বকাপ খেলায় বুঝা যায়। ব্রাজিলে প্রায় ৩০ লাখের লেবানিজের বসবাস। তাছাড়া পাকিস্থানী, ইন্ডিয়ান, ফিলিস্থিনী, বাংলাদেশ মূলতঃ তাদের কল্যানেই শিল্পনগরী পারানাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে হালাল ফুড ইন্ডাস্ট্রির এক বিশাল জগত। এখানে থাকতে থাকতে অনেকে আবার নাগরিকত্ব পেয়ে গেছে। ব্রাজিলের অভিবাসী আইন অনুযায়ী ব্রাজিলে অবস্থিত সকল অভিবাসীর পর্যায়ক্রমে ব্রাজিলের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ব্রাজিলে বর্তমানে পাঁচ হাজারের উপরে বাংলাদেশি আছে। এদের মধ্যে অল্প সংখ্যক বৈধ পথে আসলেও অধিকাংশ অবৈধ পথে বিভিন্ন বিভিন্নভাবে ব্রাজিল এসেছে। এখান থেকে আবার অনেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে আমেরিকা চলে গেছে।

ব্রাজিলের অর্থনীতি সব রাজ্যে সমান নয়, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজ্যগুলো ধনী। তাই ব্রাজিলে অবস্থানরত অধিকাংশ বাঙ্গালী আটলান্টিক মহাসাগরীয় ধনী রাজ্যগুলোতে বাস করে। বর্তমানে বাংলাদেশিরা সুনামের সাথে ব্রাজিলে বসবাস করে।

ব্রাজিলে স্থায়ী বসবাস করা - নতুন অভিবাসন আইনে ১ বছরের মধ্যে সে ব্রাজিলের পারমানেণ্ট রেসিডেন্ট পাওয়া যায়। তবে ক্ষেত্র বিশেষে দেরিও হতে পারে। ব্রাজিলে ‘এ্যাসাইলাম’ তথা রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শতকরা ৯৯ ভাগ বাংলাদেশি  দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন।

বর্তমানে প্রায় ৯৯% বাংলাদেশী ব্রাজিলের পার্মানেন্ট নাগরিকত্ব অর্জন করে সুখে দিন কাটাচ্ছে। যদি ব্রাজিলের পার্মানেন্ট কার্ড পাওয়া যায় তাহলে আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়াটা খুবই সহজ হয়ে যায়। তাই যাদের জরুরি ভিত্তেতে ব্রাজিলের পার্মানেন্ট কার্ড দরকার তারা এই সময়ের মধ্যেই সুযোগ খুঁজে নেন ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ বা চুক্তিভিত্তিক বিবাহের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বৈধ হওয়ার। কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের জন্য চুক্তিভিত্তিক পাত্রিকে ১০০০-৩০০০ ইউএস ডলারের বিনিময়ে পার্মানেন্ট কার্ড পেতে হয়, অনেকে ভাগ্যের জোরে বিনা খরচেও উক্ত কার্ড পাওয়া যায়।
তবে সব কিছুই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মেয়ে বা মহিলার মর্জির ওপর। অন্যান্য দেশের মতো ব্রাজিলেও লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে রেসিডেন্স কার্ড পাওয়ার প্রথা চালু আছে, তবে এবিষয়ে আমি নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য আদায় করতে পারিনি। 

ব্রাজিলে বাংলাদেশিদের জীবন যাপন : ব্রাজিলের অন্যতম রাজ্য পারানা অঞ্চলে প্রায় ১৫০০ এর উপর বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন । এই অঞ্চলে বাংলাদেশিরা তাদের কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম ও সততার দৃষ্টান্ত রেখেছেন বলে স্থানীয় মালিকরা বাংলাদেশিদের পছন্দ করেন।
সাও পাওলোর বেশীরভাগ বাংলাদেশি ছোটোখাটো ব্যবসা করে, ব্রাজিলিয়ান অর্গানাইজারদের মাধ্যমে সাও পাওলো থেকে ব্রাজিলের বিভিন্ন রাজ্যের শহরে বাস ভর্তি মাল নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন ব্যবসা ও সুযোগ সুবিধা বেশি থাকায় বেশিরভাগ বাংলাদেশিরা সাও পাওলো শহরে বসবাস করে। তাছাড়া এই এলাকা কিছুটা মুসলিম অধ্যুষিত বিধায় সৌদি সরকার ও ইরান সরকারের অর্থায়নে নির্মিত দুইটি বড় মসজিদও রয়েছে এই শহরে। বাংলাদেশিরা ঈদের সময় সহ বিভিন্ন সময়ে অবসর পার করতে আসে এই শহরে। অন্যান্য অভিবাসী মুসলমানদের বাংলাদেশি মুসলিমরাও মসজিদ দুইটিতে নামাজ আদায় করে। রমজানের তারাবী ও ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে বেশিরভাগ মুসলিম। বেশ বড় মসজিদ, ভিতরে বাহিরে মিলে দুই তিন হাজার লোক একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে। রমজানে মাসব্যাপী মসজিদে ইফতারি বিতরণ ও ঈদের নামাজের পরও মুসল্লীদের খাবার বিতরণ করে স্থানীয় আরব বংশোদ্ভূত ব্রাজিলিয়ান মুসলমানরা। ঈদের নামাজ মসজিদ সহ আশেপাশের রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়।
সাও পাওলোর বাংলাদেশিরা মোটামুটি ভালো আছে। এখানে বাংলাদেশি মালিকাধীন রেস্টুরেন্ট সহ পাইকারি ও খুচরা দোকানপাট আছে। এখন মোটামুটি সবাই ভালো অবস্থানে আছে। কেউ ফেরিয়া করছে, আবার কেউ এখানেই দোকানপাটসহ খাওয়ার হোটেল খুলে বসেছে।
বিভিন্ন তথ্য মতে দেখা যারা ব্রাজিলে ফেইরা করেন তারা মাসে কমপক্ষে ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা ইনকাম করেন। এমনও বাংলাদেশী ভাই আছেন যারা মাসে ৫/১০ লক্ষ টাকাও ইনকাম করেন।
ব্রাজিলে ব্যবসা করতে অনেক টাকা মূলধন দরকার হয়না। শুধু মেধা থাকলেই হয়। সাও পাওলতে অনেক বাংলাদেশি সফল ব্যবসায়ী রয়েছেন।

চাকুরির জগত থেকে দূরে থেকে যারা ব্যবসায়ির খাতায় নাম লিখিয়েছেন, তারাই খুব ভালো আছেন অর্থনৈতিকভাবে। নিয়ম অনুয়ায়ী ব্রাজিলিয়ান প্রভাবশালী লোকজন মেলা বা বাজারের ইজারা নিয়ে থাকে প্রশাসনের কাছ থেকে এবং তাদের কাছ থেকেই ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বিশেষ মূল্যে স্টল কিনে নিতে হয় বাংলাদেশিদের। আলাদা করে সরকারকে টেক্স দিতে হয় না
ব্রাজিলে দূর দূরান্তের মেলায় যেসব বাংলাদেশিরা জমজমাট ব্যবসা করে থাকেন তাদের প্রায় সবারই দুই নম্বর মাল, অর্থাৎ নাইক-এ্যাডিডাসের মতো পণ্যগুলো হুবহু নকল পণ্যের ব্যবসা করে থাকেন। এগুলো দেখতে এবং ব্যবহারে অরিজিনাল পণ্যের মতো। চাইনিজদের স্টাইলে বাংলাদেশিরাও ফ্লোরসহ ভবন ভাড়া নিয়ে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে এসমস্ত পণ্য তৈরী করে। তবে মাঝে মধ্যে ধরাও পড়ে।

পার্টনারশিপে ব্যবসা করা শ্রেয়। এতে কষ্ট কম তবে লাভ একটু কম। আর অংশীদারিত্ব বাদ দিয়ে চোখ-কান খোলা রেখে একক ব্যবসায় মাসে ৮-১০ হাজার ইউএস ডলারও খুব কঠিন নয়।


সাবধানতা : সাও পাওলোর ডাউনটাউনে ‘ব্রাইস’ এলাকাটি যেন ‘বুড়িগঙ্গার ওপাড় জিঞ্জিরা’। এককথায় ‘ক্রাইম জোন’। সব হয় এখানে, পাওয়া যায় সব কিছুই। ব্রাইস-এর অন্ধকার জগতে অন্যান্য দেশিদের সাথে অবাধ বিচরণ বেশ কিছু বাংলাদেশির। মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্থানীয় পুলিশের একটি অংশ নিয়মিত কমিশন পেয়ে থাকে সাও পাওলোর ‘জিঞ্জিরা’ খ্যাত ‘ব্রাইস’ এরিয়া থেকে।

Friday, January 12, 2018

বাংলাদেশীদের ব্যবসার জন্য বলিভিয়া -


যাদের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তাদের জন্য বলিভিয়া একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। তাই যারা ব্যবসায়িক মানসিকতা নিয়ে বলিভিয়া আসলে প্রচুর লাভবান হওয়া যায়। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন এদেশীদের জন্য অনুকুল নয়। সেখানে ল্যাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া ও ব্রাজিলে রয়েছে বড় সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বলিভিয়ায় বেশ কয়েকবছর আগে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হলেও ২০০৪ সালে বলিভিয়া বিশ্বের সবচেয়ে উদ্যোক্তা দেশ হিসেবে নামকরণ করা হয় এবং তখন থেকেই এন্টারপ্রেনরশিপের শীর্ষে অবস্থান করে। বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য বলিভিয়ার আন্তর্জাতিক ইমেজকে ব্যবসা করার স্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা হয়েছে। বলিভিয়ার সংবিধান স্বাক্ষরিত, শ্রদ্ধা এবং দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকে রক্ষা করে। এই জন্য এবং অন্যান্য কারণে, বিনিয়োগকারী এবং বেসরকারী বিদেশী কোম্পানিগুলি প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগ করার সময় ভয় পায় না বলিভিয়ায়।  
উল্লেখ্য যে, পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় বলিভিয়া ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে উভয়ই রাতের এবং দিনের মতই ভিন্ন। পশ্চিমাঞ্চল, পর্বতশৃঙ্গের অর্ধেক কম শিল্প ও কৃষি রয়েছে এবং সরকারি চাকরি ও সেবা, বস্ত্র, ক্ষুদ্র কৃষক, খনির, পর্যটন ও সেবাগুলিতে ব্যবসা ফোকাস রয়েছে। দেশের পূর্ব অংশ মূলত রমাস এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত। এখানে বড় আকারের কৃষি, গবাদি পশু খামার, শিল্প ও রপ্তানিতে বিনিয়োগ করা যায়। বলিভিয়ার বৃহত্তম শহর রাষ্ট্র সান্তা ক্রুজ, দেশের অর্থনৈতিক মুলে রয়েছে শিল্প ও কৃষি। বলিভিয়ানরাও নিশ্চিত করতে চায় যে, বলিভিয়ার সরকার নিরাপদে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ প্রদান করে।
 
রেষ্টুরেন্ট ও খাবারের ব্যবসা :
প্রতিদিন নিরামিষভোজী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বলিভিয়ায় সবজি জাতীয় খাবারের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখানে  prepackaged নিরামিষ খাদ্য বিক্রির হারও বেশি। কিন্তু সে তুলনায় এ ধরনের রেষ্টুরেন্ট তুলনামুলক কম। মাত্র হাতে গনা কয়েকজন বাংলাদেশী ও ইন্ডিয়ান এই ব্যবসা করে ভালই ইনকাম করে যাচ্ছে। আপনি যদি নিরামিষ রান্না বা সবজি রান্নার ধারনা থাকে তাহলে আপনিও হতে পারেন বলিভিয়ায় একজন সফল ব্যবসায়ী। ইনকাম করতে পারেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কয়েকগুন বেশি। বলিভিয়ায় সান্তা ক্রুজ একটি প্রসিদ্ধ শহর। এখানে বেশ  কয়েকটি ভারতীয় খাদ্যের রেস্টুরেন্ট আছে, বেশিরভাগই সেন্ট্রোতে। তবে একজন বলিভিয়ায় বেশ কয়েকবার গেছেন এমন একজন লোকের কাছে জেনেছি এই ধরনের রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্য ৪র্থ রিং নামক জায়গায় বেশি সফল হতে পারে। কারন এখানে নিরামিশভোজি ও সবজি ভিত্তিক খাবারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। 
 
লাঞ্চ ডেলিভারী : বলিভিয়ায় রয়েছে লাঞ্চ ডেলিভারী ব্যবসার সুবিধা এবং চাহিদাও প্রচুর। বড় বড় হোটেলসমুহও লাঞ্চ ডেলিভারীর জন্য এজেন্ট খুজে। তবে এই ব্যবসা শুরু করার আগে স্থানীয় স্বাস্থ্য বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয় । এই খাবারের অর্ডার অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় অর্ডারও প্রচুর। নিজে না করেও বড় হোটেল থেকে ডেলিভারীর এজেন্ট নেয়া যায়। এতে মাসিক ১০০০ ডলার এর উর্দ্ধে আয় করা যায়।  
 
কাপড়ের ব্যবসা : বলিভিয়ায় কাপড়ের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাদের নিজস্ব কাপড় তৈরীর শিল্প না থাকায় বিশেষ করে চিলি ও আমে
রিকা থেকে আমদানী করতে হয়। খুচরা ব্যবসায়ীরা কাপড়ের ব্যবসা করে প্রচুর লাভ করে থাকে। তবে ঐ দেশগুলোতে কাপড়ের দাম বেশি। বলিভিয়ান মেয়েরা প্যান্টের চাইতে স্কার্ট বেশি পছন্দ করে। আর তারা কেনা কাটা বেশি পছন্দ করে। তাদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ঠ হচ্ছে তারা যদি একবার কাউকে বিশ্বাস করে তাহলে তার কাছ থেকেই সব কেনাকাটা ও পরামর্শ নেবে। যদি বাংলাদেশ থেকে চাহিদা মোতাবেক কাপড় আমদানী করে ব্যবসা করতে পারে তাহলে দ্বিগুন লাভ করা যাবে।
 
অন্যান্য ব্যবসা : অন্যান্য ব্যবসার সম্ভাবনাময় ব্যবসা হচ্ছে কৃষি জমির ব্যবসা। এখানে কৃষি জমি নামমাত্র মূল্যে কেনা যায় এবং বিদেশিদের জন্য জমি কেনার অনুমোদন রয়েছে। ঘর/বাড়ী কেনার সুবিধা যাহা ক্রয় করে আপনি ভাড়া বা নিজে থাকতে পারেন। বলিভিয়ান সরকার থেকে জমি নিয়ে গাছ বাগান ও গবাধি পশুর খামার, মুরগির খামার করেও প্রচুর ইনকাম করা যায়।
 
ব্যবসার জন্য পুজি : বলিভিয়ায় ব্যবসা করতে তেমন পুজি লাগে না। আমাদের দেশের মতো সেলামি বা এডভাঞ্চ দিয়ে ব্যবসা করতে হয় না। স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিয়ে জায়গা ক্রয় করে কিংবা স্বল্প পরিমান টাকা দিয়ে ব্যবসা করে প্রচুর ইনকাম করা যায়। বাংলাদেশী টাকায় ৭/৮ লক্ষ টাকায় সুন্দরভাবে ব্যবসা  করে মধ্যপ্রাচ্য থেকেও অধিক পরিমান লাভ করা যায়।

Sunday, December 24, 2017

সাজেক ভ্যালীঃ

ভ্রমন পিপাসুদের জন্য সাজেক ভ্যালী একটি অন্যতম দর্শনিয় স্থান। প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য্যের আঁধার এই সাজেক ভ্যালী।  রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত । সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । সাজেকের আয়তন ৭০২ বর্গমাইল,সাজেক ভ্যালির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে আপনি অনুভব করবে প্রাশান্তির নির্মল ছায়া। সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্ব উত্তরের ভারতীয় সীমান্ত মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। আয়তনের দিকে থেকে সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম আর পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। যদিওবা সাজেক রাঙামাটি জেলায় কিন্তু যাতায়াত সুবিধার দিক বিবেচনা করলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সহজ। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার ।


যেভাবে যেতে হবে : খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পার হয়ে সাজেক যেতে হয়। সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পার হয়ে ১০নম্বর বাঘাইট হাট পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্প। এখান থেকেই আপনাকে সাকেজ যাওয়ার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ।যা কাসালং নদীর উপরে অবস্থিত। এর পর পড়বে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। সাজেকের প্রথম গ্রাম রু্‌ইলুই পাড়া যার উচ্চতা সমতল থেকে উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এই গ্রামের আদি জনগোষ্ঠী লুসাই, পাংকুয়া এ ‍ত্রিপুরারও বাস করে। রুইলুই পাড়া থেকে অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে পৌছতে পারবেন প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য  সাজেক ভ্যালী। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজিবি ক্যাম্প। হ্যালিকপ্টার অবতরণের জন্য এখানে হেলিপ্যাডের ব্যবস্থাও রয়েছে।        

যাতায়াত ব্যবস্থা :
ঢাকা থেকে শ্যামলী , হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায় । শান্তি পরিবহন, তাছাড়া সায়দাবাদ থেকে সকাল ৮ টায় একটি গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । BRTC এসি বাস  চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে কিছুক্ষণ পর পর গাড়ী ছাড়ে।
খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজে ভ্যালিতে যাওয়া যায়। একটি গাড়িতে অনায়াসেই ১৫ জন যেতে পারবেন। চান্দের গাড়ি আপ-ডাউন রিজার্ভ ভাড়া নিবে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। আর লোকজন কম হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত বাসে যেতে পারেন। এজন্য জন প্রতি ৪৫ টাকা লাগবে। দীঘিনালা থেকে মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ঘুরে আসতে পারেন। প্রতি মোটর সাইকেলে এক হাজার থেকে এক হাজার দুই শত টাকা পর‌্যন্ত ভাড়া নিয়ে থাকে।
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা : খাগড়াছড়ি শহরে বা দীঘিনালাতে থাকার জন্য হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এ সকল হোটেলে আপনি বিভিন্ন দামের রুম ভাড়া নিতে পারবেন। খাওয়া দাওয়ার জন্যও সুব্যবস্থা রয়েছে।  
                                               
 তবে যারা দুর থেকে এসে থাকতে চান তাহলে অগ্রিম বুকিং দিতে হবে নয়তো থাকার যায়গা যোগার করা কষ্টকর হবে। সাজেকে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর দুইটা রিসোর্ট আছে। তাছাড়া সেখানে অনেক ছোট-খাট কটেজ পাওয়া যায়। 
 সাজেক রিসোর্টঃ  মোট ৪ টি রুম আছে। আর্মি অফিসারদের জন্য ভাড়া ৩০০০-৫৫০০, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ভাড়া ৪৫০০-৮০০০, সাধারন জনগনের জন্য ভাড়া ১২০০০-১৫০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।
যোগাযোগ ০১৭৮৩৯৬৯২০০। 

 রুনময় রিসোর্টঃ   মোট ৫ টি রুম আছে। আর্মি অফিসারদের জন্য ভাড়া ১৩০০-১৭০০, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ভাড়া ২৬০০-৩২০০, সাধারন জনগনের জন্য ভাড়া ৪৫০০-৫০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।
যোগাযোগ ০১৮৬৫৬৮৮৭৭।

 রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউসঃ  এখানে ১৫ জন থাকতে পারবেন। ভাড়া ২০০ টাকা জনপ্রতি।
যোগাযোগ ০১৮৩৮৪৯৭৬১২, ০১৮৬০১০৩৪০২।
মেঘ মাচাং: সাজেকের বেস্ট রিসোর্টের স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এখানে থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
 যোগাযোগ ০১৮২২ ১৬৮৮৭৭ রুম প্রতি ৩০০০ টাকা ভাড়া । এক রুমে চারজন থাকতে  পারবেন ।

আলো রিসোর্টঃ  মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে এখানে মোট ৬ টি রুম। ভাড়া ৮০০-১২০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।
যোগাযোগ ০১৮৬৩৬০৬৯০৬। 
 ইমানুয়েল রিসোর্টঃ  ডাবল বেডরুম ১৫০০ টাকা। চারজন থাকার মতো রুম ২৫০০ টাকার মধ্যেই পাবেন। আগে বুকিং করে যাওয়া ভালো।
রুইলুই পাড়াতে অনেক পাবলিক ঘর পাওয়া যায়, যেখানে নামমাত্র খরচে  জনপ্রতি ২০০ টাকা দিয়ে থাকা যাবে।
 লুসাই কটেজঃ  এখানেও মোটামুটি কম খরচে থাকতে পারবেন।
যোগাযোগ: ০১৮৭৯৩০০৫০২।
মেঘ পুন্জিঃ সাজেক ভ্যালীর অন্যতম একটি সুন্দর রিসোর্ট।
 যোগাযোগ নাম্বার ০১৮১৫৭৬১০৬৫ , ০১৯১১৭২২০০৭

জুমঘরঃ জুমঘরও একটি মানসম্মত রিসোর্ট ।
যোগাযোগ : ০১৮৮৪২০৮০৬০  
 রক প্যারাডাইসঃ সাজেক ভ্যালীর কংলাক পাড়াতে এ কটেজটি। এখানে অবস্থান করে প্রাকৃতিক রহস্য উপভোঘ করতে পারা যায়।
যোগাযোগ : ০১৮৪২৩৮০২৩৪ নাম্বারে ।


খাবার দাবার :
সাজেকে খাওয়ার জন্য তেমন কোন রেস্টোরেন্ট নেই। যেই রিসোর্ট এ উঠবেন তাদের কে বলে রাখলে তারা খাবার ব্যবস্থা করে রাখে।
খাবার মেনুতে আপনি সকালে ডিম খিচুড়ি (তাতে ডাল এর দেখা পাবেন কিনা সন্দেহ) বা ডিম পরোটা, দুপুরে ও রাতে ভাত, মুরগী আর ডাল ছাড়া আর কিছু তেমন পাবেন না। তবে সেখানকার হেডম্যান এর মেয়ে মারতি দিদির একটা রেস্টুরেন্ট আছে, সেখানে খেতে পারেন, খাবার মান ও স্বাদ ভাল।
রাতে বার বি কিউ পার্টি করতে চাইলে আগে থেকে ব্যবস্থা করে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে দিঘিনালা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে সাথে নিয়ে যেতে হবে।

ফেরার সময় খাগড়াছড়ি শহরের সিস্টেম রেস্তোরায় রাতের খাবার খেতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের রেস্তোরার অবস্থান । এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন । ব্যাম্বো চিকেন খেতে চাইলে আগে থেকে অর্ডার করে রাখতে হবে।যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬৩৪ , ০১৫৫৬৭৭৩৪৯৩ , ০১৭৩২৯০৬৩২২ ।

Categories

Unordered List

Sample Text

Blog Archive

Powered by Blogger.

Comment System

Disqus Shortname

Fixed Sidebar (true/false)

Full-Width Version (true/false)

Nature

test

Comments

Government Jobs

Definition List

Unordered List

PageNavi Results No.

Post Top Ad

Search This Blog

Post Top Ad

Your Ad Spot

Post Top Ad

Your Ad Spot

Find Us On Facebook

Random Posts

Social Share

Flickr

Banking Jobs

AD BANNER

Home - Recent Posts (show/hide)

Sponsor

Recent comments

Banking Jobs

Sponsor

ads

Contact Form

Name

Email *

Message *

Responsive Ads Here

Recent in Sports

Ordered List

captain_jack_sparrow___vectorHello, my name is Jack Sparrow. I'm a 50 year old self-employed Pirate from the Caribbean.
Learn More →

Sample Text

Recent Posts

Ads Here

Events

test

Business

Recent Comments

Pages

Responsive Ads Here

Facebook

Popular Posts

Popular Posts

Recent Posts

Ads Here

Text Widget